
মো:আবদুল লতিফ,ষ্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে ভোটের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বদলাতে শুরু করেছে সমীকরন।নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে।সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দূর্গ খ্যাত এ আসনে উপনির্বাচনে অভিষেক হয়েছিল চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়ার।সেই থেকে বিএনপির দূর্গ খ্যাত এ আসনে বারবার মনোনয়ন পেয়ে আসছেন আবুল খায়ের ভুঁইয়া। এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা আমির মাষ্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়াকে ঘিরে জমে উঠেছে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণায় বদলাতে শুরু করেছে আসনের ভোটের সমীকরণ।
রায়পুর উপজেলা ও জেলা সদরের ইউনিয়ন গুলোতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হচ্ছে পথসভা, গণসংযোগ, কর্মীসভা ও মতবিনিময় সভা। ব্যানার, পেষ্টুন,পোস্টার ও স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক,বাজার ও গ্রামীণ এলাকা। স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এখন দুই ‘ভূঁইয়া’।
রায়পুর পৌরসভার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, “আগে মানুষ দল দেখে ভোট দিত। এবার অনেকেই প্রার্থী দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। যিনি এলাকায় থাকেন, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকবেন, তাকেই মানুষ চাইছে।” নাজমা বেগম নামে এক গৃহবধু বলেন, “আমরা শান্তি আর নিরাপত্তা চাই। যে প্রার্থী নারীদের কথা ভাববেন, তাকেই ভোট দেব।”
নতুন ভোটার যুবক রাসেল হোসেন বলেন, “এবার ভোটের হিসাব খুবই কঠিন।এবার সবাই ভেবেচিন্তে ভোট দেবে।”
ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা—এই তিনটি বিষয়ই এবারের ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “লক্ষ্মীপুর-২ আসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের আসন। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, “এই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক এখনো শক্ত। দলে কোন বিভাজন নাই। বিজয় আমাদেরই হবে।”
জামায়াত প্রার্থী মাষ্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়া বলেন,এ দেশের মানুষ অর্ধ শতাব্দীকাল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে,কিন্তু গনমানুষের ভাগ্য বদলায়নি।দেশে সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়নি। ২০২৪ এর গণবিপ্লবের পর মানুষ ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা চালু করতে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।