
স্টাফ রিপোর্টের:
রাজশাহীর বাগমারায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুইটি ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মহিলা শাখার সদস্য মোছাঃ আঞ্জুয়ারা বেগম ও তাঁর সহকর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে প্রচারণা চালানোর সময় হামলার শিকার হন। স্থানীয় বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী দলের কয়েকজন তাদের পথরোধ করে, শারীরিকভাবে হেনস্থা চালায়, হিজাব ছিঁড়ে ফেলে এবং ইট নিক্ষেপ করে। এতে কর্মীরা আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন তোতাকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন মোজাম্মেল হক, ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী, মাহাবুর রহমান, মামুন হোসেন, রাজু আহম্মেদ ও রেজাউল করিম। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানিয়েছেন, আটক অভিযুক্তকে ৫ আগস্টের এক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
একই দিনে, জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে একই ইউনিয়নের নানসর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ তুলে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নাজেহাল করার ঘটনা ঘটে। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আবদুল লতিফ নামের ওই ব্যক্তি মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে ও যুবলীগ কর্মী তোতা হোসেন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মব তৈরি করে তাকে ঘিরে ধরে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবদুল লতিফকে উদ্ধার করা হয় এবং নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আবদুল লতিফ জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক পদার্থের পক্ষে ভোট চাওয়ার চেষ্টা করেননি এবং শুধুমাত্র সাহায্য চেয়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তোতা হোসেন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকায় না থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের পর ফিরে এসে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তবে নিজে মব তৈরি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, সোহরাব হোসেন তোতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।