
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লেও এটিকে কেউই কাম্য নয় বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেছেন।
ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং দলীয় দায়িত্বশীলদের তথ্য অনুযায়ী—সংঘর্ষের সময় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি ওই সময় মধুখালীতে এক নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন।
তবুও ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু কর্মী তাকে এককভাবে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেছেন। তাকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বহিষ্কারের দাবিও তোলা হচ্ছে।
নাসিরুল ইসলামের সমর্থকদের অভিযোগ—
“ঘটনায় যারা সরাসরি মারামারি করেছেন তাদের পরিবর্তে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে একজন শীর্ষ নেতাকে। এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আগ্রাসন ছাড়া কিছুই নয়।”
তারা আরও জানান, নাসিরপক্ষের কেউ সেদিন লাঠিসোটা বা অস্ত্র নিয়ে আসেননি। বরং প্রতিপক্ষের তাড়া খেয়ে আত্মরক্ষার জন্য নিকটস্থ স’মিলের কাঠ হাতে নেন। পাল্টা দাঁড়ানো ছাড়া তাদের সামনে অন্য উপায় ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বোয়ালমারীতে বিএনপির ভেতরে নেতৃত্বসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করে। মারামারিতে দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর নাসিরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে অব্যাহত সমালোচনা ও প্রচারণা বিএনপির ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—
“ফরিদপুর-১ আসনের রাজনীতিতে নাসিরবিরোধী একটি মহল বহুদিন ধরে সক্রিয়। যেকোনো ঘটনাকে নাসিরের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা তাদের দীর্ঘদিনের কৌশল।”
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে জেলা বিএনপি তদন্ত শুরু করেছে। তবে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন—
ন্যায়বিচার নয়, বরং ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই দোষারোপ।