
আব্দুল মতিন মুন্সী (স্টাফ রিপোর্টার:)
আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু চক্র বিশেষ করে হিন্দু ব্যবসায়ীদের ওপর ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনসাধারণকে সতর্ক করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরে ব্যাপকভাবে মাইকিং করা হয়েছে।
মাইকিংয়ে স্থানীয়দের বলা হয়েছে, “প্রিয় আলফাডাঙ্গাবাসী, আমাদের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে আলফাডাঙ্গা বাজার ও আশপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন নতুন মামলার আসামি বানানোর ভয় দেখিয়ে নীরবে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা চলছে। কেউ যেন এ ধরনের ফাঁদে পা না দেয়। অনেকেই নিজেদের বিএনপির নেতা দাবি করছে। যদি কেউ আপনাকে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভয় দেখায়, তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে জানান। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, “জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্দেশে এই মাইকিং করা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে দলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে। উপজেলাজুড়ে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।”
উপজেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কিছু কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নীরব চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এসব কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে এই মাইকিং কর্মসূচি চালানো হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজালাল আলম বলেন, “বিএনপির পক্ষে এ ধরনের মাইকিং করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অপরাধ দমন পুলিশের দায়িত্ব। জনসাধারণ থেকে অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলার মানুষ এই ধরনের নীরব চাঁদাবাজি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।