1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
শৈশবের সেকাল, একাল; স্ক্রিনের ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাটিমের হাসি - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শৈশবের সেকাল, একাল; স্ক্রিনের ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাটিমের হাসি

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৩ বার পঠিত

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

মাটির মাঠে লাটিম ঘুরছে না, মার্বেল ছিটকে গোধূলি পর্যন্ত বাপে-মাতের ডাকেই ছেলেরা স্ক্রিনে ঝুঁকে পড়ে—এই দৃশ্য আজকের অনেক গ্রাম ও শহরের জন্য আর অদ্ভুত কিছু নয়। স্মার্টফোন-ভিত্তিক পৃথিবীতেড় শিশু-কিশোরদের ব্যস্ততা বদলে গেছে; খেলার মাঠ সরসাম, সাবলীল মুখ-মুখো কথা কমে, এবং ছোটখাটো জিনিসেই দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
গত দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ফলে দেখা যায় ক্ষুদ্রতর সংঘাতেও অতিরিক্ত উত্তেজনা ও তুচ্ছ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া,পরমতসহিষ্ণুতা কমে আসা,মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া,সাইবারবুলিং, অনুচিত কনটেন্টের গ্রহণ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন,শারীরিক ক্রিয়াশীলতার হ্রাস এবং সামাজিকভাবে মিশে থাকার দক্ষতা কমে যাওয়া।
এগুলো সমষ্টিগতভাবে শিশুমনের বিকাশে, বিদ্যালয় জীবনে ও পারিবারিক সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র ফোন দায়ী নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা একসাথে কাজ করছে,স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী হওয়া,বাবা-মায়ের ব্যস্ততা,অনেকে শিশুকে ‘নীরব রাখার’ জন্য স্ক্রিন দেন। তাছাড়া খোলা মাঠের অভাব তো রয়েছেই।
স্ক্রিন-নির্ভর শিশুমনে দ্রুত অনুভূতি-প্রসূত প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেলে সমাজে নেতিবাচক ফলও দেখা দেয়—বহু সময় ছোট সামাজিক বিরোধ ইন্টারনেটে তীব্র হয়ে ওঠে, যাকে অনলাইনে বাড়তি জোরালো প্রতিক্রিয়া জবরদস্তি করে। স্থানীয় সংস্কৃতির উপচয়—সহমর্মিতা, মুখোমুখি আলোচনা ও সম্পর্ক মেরামত—সব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্কুলে মনোনিবেশ কমে পড়লে শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়। অথচ
পুরনো দিনের লাটিম, মার্বেল, গোল্লাছুট–এসব সামান্য খেলা নয়—এসব ছিলো শারীরিক মোটর স্কিল ও হাত-চোখের সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যম,কৌশলভিত্তিক চিন্তা, পরিশ্রমে প্রতিদান শেখার প্ল্যাটফর্ম,দলে সঙ্গে খেলায় সহযোগিতা, নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা,ক্ষতি-লাভ, হেরে যাওয়া -জিতে যাওয়ার মানসিক অন্তর্বৃত্তি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা,স্থানীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ড শক্তিশালী করা।এই সব গুণাবলী কেবল খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ ছিল না—এগুলো পরিণত করতো পরিপক্ক নাগরিক এবং সৃজনশীল চিন্তাবিদ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ