
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
সৌদি আরবের রাজধানী Riyadh থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় প্রবাসী যুবক রকিফুল ইসলাম রাকিবকে। মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকেই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো প্রবাসী সমাজকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—ঘটনার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাকিবের পরিবার এখনো পায়নি দৃশ্যমান কোনো সহযোগিতা, বিচার প্রক্রিয়ার দৃঢ় আশ্বাস কিংবা জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ।
অভিযোগ রয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সৈকত, জয়সহ আরও কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও ১/২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে মূল অভিযুক্তদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—রাকিবের মা নিজেও একজন প্রবাসী নারী। সৌদি আরবের Mecca শহরে গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের একমাত্র ছেলেকে বড় করেছেন, পড়াশোনা করিয়েছেন, পরে তাকে সৌদি আরবেও নিয়ে গিয়েছিলেন ভালো ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু সেই সন্তানকেই কিছু নরপশু অপহরণ করে হত্যা করে।
ছেলের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়া মা নিজেই ছুটে গেছেন Embassy of Bangladesh, Riyadh-এ। এরপর দেশে ফিরে বিচার চেয়ে ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কেন একজন অসহায় মাকে একাই বিচার চাইতে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে? রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব ছিল না? একজন প্রবাসী মায়ের সন্তানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কি সরকারের নৈতিক দায়িত্ব নয়?
রাকিব হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ এবং বিচারহীনতার এক নির্মম উদাহরণ। আজও রাকিবের মা উত্তর খুঁজছেন—তার একমাত্র সন্তানের হত্যাকারীরা কেন এখনো মুক্ত? কেন ৬ মাসেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই?
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ তাদের জীবন, নিরাপত্তা ও পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে এমন নীরবতা অনেকের মনেই ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে। আজ রাকিবের মায়ের কান্না শুধু একজন মায়ের আর্তনাদ নয়, এটি হাজারো প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি।