
মামুন হাসান (সম্পাদক,দৈনিক বর্তমান সংবাদ)
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ–এর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ছাত্ররাজনীতির কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেজুরভিত্তিক রাজনীতি প্রায়শই সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এর ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়, পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে যায় এবং সেশনজটের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ, হল দখল এবং দলীয় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এবং তারা দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশের দাবি জানাচ্ছেন।
অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও মানসিক বিকাশের জায়গা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র নয়। তারা মনে করেন, দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পুরোপুরি রাজনীতি সরিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, সুস্থ ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও গণতান্ত্রিক চর্চা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও অপব্যবহারই মূল সমস্যা।
এদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি সহিংসতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাজনৈতিক সংঘাত থেকে মুক্ত থেকে একটি শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।