
মামুন হাসান:বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে ঋণগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আর এই ঋণের টাকা পরিশোধ না করতে পেরে আত্মহত্যার সংখ্যাও উদ্বেগজনক।এই ঋণের ফাঁদে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তরাও আটকা পড়ে যাচ্ছে। প্রচলিত ব্যাংকের সুদ হার কম হলেও সেখান থেকে ঋণ পাওয়া সহজ নয়। ফলে তার উচ্চ সূদ হারে অপ্রচলিত, ব্যক্তিখাত এবং এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছেন। ওই ঋণের সুদ আর কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে এখন তারা দিশেহারা।
অভিযোগের ভিত্তিঃ-
বাংলাদেশে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সইতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে ঋণগ্রহীতাদের আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনার উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
ময়মনসিংহে ব্র্যাক ও আশাপাড়া থেকে ঋণ নেওয়া সাইফুল ইসলাম নামে এক কৃষক ঋণের কিস্তির চাপে আত্মহত্যা করেন।
রাজশাহীর মোহনপুরে ১১টি এনজিও (যার মধ্যে ব্র্যাক, আশা ও প্রশিকা অন্তর্ভুক্ত) থেকে ঋণ নেওয়া আকবর হোসেন নামে এক কৃষক ঋণের কিস্তির চাপে আত্মহত্যা করেন।
মেহেরপুরের মুজিবনগরে এনজিওর ডজনেরও বেশি ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে হিরোক মন্ডল নামে এক যুবক বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
নীলফামারীতে এনজিও কর্মীর কিস্তির চাপে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে, যেখানে আশা এনজিওর ঋণের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও ব্র্যাক ও শার্পের ঋণের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
গাইবান্ধায় ফিরোজা খাতুন নামে এক গৃহবধূ ব্র্যাক থেকে নেওয়া গৃহনির্মাণ ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋণের কিস্তির চাপে রুবেল মিয়া (৩৫) নামের শারিরিক প্রতিবন্ধী এক যুবক বিষ পানে আত্মহত্যা করেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মৃণাল রায় (৬০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি পেশায় বিদ্যুৎ মিস্ত্রি ছিলেন।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দুই শিশু সন্তানকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার পর মা ) গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সাধারণত একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অন্যটির কিস্তি পরিশোধ করার “ঋণচক্র” এবং মাঠকর্মীদের কিস্তি আদায়ের কঠোরতা ঋণগ্রহীতাদের এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তারঃ দাবি করেন যে, ব্রাক এনজিও এবং অন্য এনজিও ক্ষুদ্রঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে (কখনও কখনও ৩০% বা ৪৭% সুদ আদায় করে, যা দরিদ্র মানুষকে ঋণের জালে আবদ্ধ করেন,ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস কেনো গরীবকে ক্ষুদ্র ঋন দিয়ে ৩০% থেকে ৪৭% হারে সুদ আদায় করেন? এত অত্যধিক সুদ নেয়ার পরেও কিভাবে তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছে?এই ঋণের মডেলকে প্রচলিত মহাজনী ব্যবস্থার সাথে তুলনা করে তাকে “সুদখোর মহাজন” বলে আখ্যা দেন।
অধ্যাপক ইউনূস এই অভিযোগগুলোঃ-বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তার মতে, গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাক এনজিও এবং অন্য এনজিও ঋণের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং এই ব্যাংকটি মূলত ঋণগ্রহীতাদের মালিকানাধীন একটি সামাজিক ব্যবসা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে,গ্রামীণ ব্যাংক ও এনজিও সুদের হার প্রচলিত বাজারের তুলনায় কম এবং এর উদ্দেশ্য মুনাফা নয়, বরং দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে-ছাত্রদের প্রস্তাব : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ডক্টর ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে এই স্লোগানটি।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী”তারেক রহমান এই দর্শনকে জনপ্রিয় করেছেন, যার মূল কথা হলো: “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ”।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন:
নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পর নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, দল বা ব্যক্তি যেই হোক না কেন,আওয়ামী লীগ যদি অতীতে কোনো অন্যায় করে থাকে তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।যেহুত তাহলে
সবার আগে “অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও সকল’সুদখোরদের মহাজনের”সুদ ব্যবসা বন্ধ ও বিচার দাবি করেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে।
ভুক্তভোগী: রিয়া আক্তার বলেন:
যতক্ষণ পর্যন্ত ‘সুদখোরদের মহাজন’অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সহ অন্য অন্য” সুদ মহাজন ব্যবসার বন্ধ এবং বিচার না হবে বাংলাদেশে।কোন দিন বাস্তবায়ন হবে না”আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ”।।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দিনে দিনে সংকট আরও বাড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের চাপ সইতে না পেরে বেশ কয়েকটি পরিবারে সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে এনজিও বা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার।
ফাঁকা চেকের অপব্যবহার বন্ধঃ-
ঋণের জামানত হিসেবে রাখা ফাঁকা চেকে মোটা অংকের টাকা বসিয়ে প্রতারণামূলক চেক ডিজঅনার মামলা বন্ধ করা।
আমানত ফেরতঃ-এনজিওতে জমাকৃত অর্থ (সঞ্চয়) ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ:অবৈধ এনজিওর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
মামলা ও আইনি হয়রানি: অনেক ক্ষেত্রে কিস্তি পরিশোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও ঋণের বাকি টাকা দ্রুত আদায়ের জন্য এনজিও কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি বা অন্য হয়রানিমূলক মামলা করছে। এমনকি ঋণের টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারায় অনেক সময় দরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের কারাদণ্ড হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
আইনি প্রেক্ষাপট:উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত বা ব্ল্যাংক চেক রেখে পরে তা দিয়ে মামলা করা অবৈধ। ভুক্তভোগীরা এই নির্দেশনা মেনে এনজিওর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও জনসাধারণ “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।