1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
With Headline মুল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রি; কোটি টাকার জমি কিনে সর্বস্বান্ত ক্রেতা খুলনার আব্দুস সালাম। - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

With Headline মুল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রি; কোটি টাকার জমি কিনে সর্বস্বান্ত ক্রেতা খুলনার আব্দুস সালাম।

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩৬ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার—-
মুল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে কোটি কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পর একই জমি পুনরায় বিক্রি করে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোঃ মিজানুর রহমান স্বপন ও তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা লিমার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখায় জমির মূল দলিল জমা রেখে স্বপন কোটি টাকার লোন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের অজান্তে সেই একই জমি নিজ স্ত্রীর নামে হেবা দলিল করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। বাগেরহাট জেলার পিলজংগ মৌজার সি.এস খতিয়ান ১৬৯১, এস.এ খতিয়ান ১৫২১, আর.এস খতিয়ান ৯৫৭ ও ১৭৬১-এর অন্তর্ভুক্ত দাগ নং ৪২১ এবং দাগ নং ১১৭ থেকে মোট দুই দাগে ৩৫ শতক জমি গত ২৩ জানুয়ারি তারিখে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জমিটির মোট মূল্য ধরা হয় আড়াই কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা দলিল খরচ বাবদ এবং ২ কোটি টাকা বায়না বাবদ পরিশোধ করা হয়। এছাড়াও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জমির ক্রেতা আব্দুস সালামের কাছ থেকে আলাদা আলাদা ৪টি চেক গ্রহণ করেন মিজানুর রহমান স্বপন, প্রতিটি চেকের মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা করে উল্লেখ থাকলেও ইতোমধ্যে একটি চেক ভাঙিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। বাদবাকি ৩টি চেক ৫ লক্ষ টাকার স্থলে ঘষামাজা করে ৫০ লক্ষ টাকা বানায়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীকে অবহিত করলে আব্দুস সালাম বাগেরহাট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি চেক জালিয়াতির মামলা করেন,যার নং – মিস,পি ৪১/২৪।
জমি ক্রয়ের পর আব্দুস সালাম দখল নিতে গেলে মিজানুর রহমান স্বপন বাধা প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে বাদী হয়ে আব্দুস সালাম, তার পুত্র এস এম আল নাহিয়ান ও আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে বাগেরহাট বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিস মামলা নং ২৫০/২৪ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা আকরাম হোসেন তদন্ত করে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই মর্মে রিপোর্ট দাখিল করেন। তদন্তকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, উক্ত জমি ইতোমধ্যেই ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বপনের বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যার মামলা নং ৬০/২০। তদন্ত রিপোর্ট স্বপনের পক্ষে না যাওয়ায় তিনি ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখে একই আদালতে পুনরায় মামলা করেন এবং পরবর্তীতে নভেম্বর ২০২৪ মাসে আরও একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং মিস ৮০১/২৪। এদিকে পারিবারিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আব্দুস সালাম তার ক্রয়কৃত জমি নিজ পুত্র এস এম আল নাহিয়ানের নামে হেবা দলিল করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর রহমান স্বপন ও তার সহযোগীরা
স্বপন ও তাঁর ভায়রা ৩১ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুম ওরফে গরু মাছুম বাহীনির সন্ত্রাসীরা জমির সাইনবোর্ড ও সীমানা ভেঙে ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের পর প্রায় এক বছর দখলে থাকার পর জোরপূর্বক এস এম আল নাহিয়ানকে জমি থেকে উচ্ছেদ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভূমিদস্যুদের একের পর এক হুমকির কারণে জমিতে যেতে না পেরে বাগেরহাট জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি নিরোধ ও প্রতিরোধ আইনের অধীনে তবলা সি.আর ৩৬৮/২৪ এবং বায়না সি.আর ১৯৯/২৪ নম্বরের দুটি মামলা দায়ের করেন এস এম আল নাহিয়ান। সি.আর ৩৬৮/২৪ মামলায় ফকিরহাট মডেল থানার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত মিজানুর রহমান স্বপন, তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা লিমা সহ সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সর্বশেষ ভুক্তভোগী এস এম আল নাহিয়ান জানান, তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন পলাতক আসামিরা বহিরাগত লোকদের কাছে জমি বিক্রির অপচেষ্টায় মাপামাপি করছেন। সংবাদ পেয়ে গত ৬/১১/২০২৫ তারিখে পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষকে টাকা পরিশোধপূর্বক সমঝোতার পরামর্শ দেন। এ সময় মিজানুর রহমান স্বপন ও তার স্ত্রী লিমা একটি অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বন্ধক বিহীন অবশিষ্ট জমি এস এম আল নাহিয়ানের নামে জামানত বাবদ রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সম্পূর্ণ জমির দখল তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ক্রাফট মেশিনারিজের কাছে বুঝিয়ে দেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী।
এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান স্বপনের ব্যবহৃত ০১৯১১-৩৩৩৩৪৪ এই নম্বরের মুঠোফোনটিতে বারবার ফোন দেয়ার পরেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেলে রুপসা ব্রীজ এলাকায় মিজানুর রহমানের নিজ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী অটো চিড়ার মিলে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ