
তীব্র শীতের রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, অধিকাংশ মানুষ যখন উষ্ণ বিছানায় ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময় ভাসমান নৌকায় বসবাসকারী শীতার্ত জেলে পরিবার ও অসহায় মানুষের পাশে সপরিবারে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পুরান বেড়ির চান্দার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় নৌকায় ভাসমান প্রায় ৪০টি অসহায় পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
চান্দার খালের এই এলাকাটি মূলত মেঘনা নদী ঘেঁষা একটি নৌকাভিত্তিক জনপদ। এখানকার অনেক পরিবার বছরের পর বছর নৌকায় বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরে, কেউ নৌকা চালিয়ে কিংবা দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা চালান। স্থায়ী ঘরবাড়ি না থাকায় শীত মৌসুমে এসব পরিবার সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।
বিশেষ করে রাতের বেলায় খোলা আকাশের নিচে কিংবা নৌকার ভেতরে শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ভাসমান মানুষের কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গভীর রাতেই সরাসরি সেখানে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার।
নৌকায় করে একে একে ভাসমান পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে তিনি নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিস সাথী আক্তার।
কম্বল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ভাসমান জেলে পরিবারের মানুষজন। অনেকেই জানান, কনকনে শীতের রাতে প্রশাসনের কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসবেন, এমনটা তারা কল্পনাও করেননি।
ইউএনওর উপস্থিতি ও আন্তরিক আচরণ তাদের মাঝে অনুপ্রেরণা,সাহস ও ভরসা জুগিয়েছে।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাসমান মানুষজন। ১৪ বছর বয়সী রায়হান বলেন, “সারারাত খুব ঠান্ডা লাগে। গায়ে কিছু দিতে পারিনা। আজ কম্বল পেয়ে ভালো লাগলো।
নৌকায় ভাসমান সফি সরদার বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ, নৌকায় থাকি। শীতে খুব কষ্ট হয়। এই রাতে স্যার নিজে নৌকায় এসে কম্বল দিছেন, এটা আমরা কোনোদিন ভুলব না।
ভাসমান নারী চবুরা খাতুন বলেন, “বাচ্চা লইয়া শীতের রাতে খুব কষ্টে থাকি। আজ কম্বল পাইছি, মনে শান্তি লাগতেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “শীত মৌসুমে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। যারা নৌকায় বা নদীর পাড়ে বসবাস করেন, তাদের কষ্ট অনেক বেশি। তাদের জন্য এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।