
স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মতিন মুন্সী
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের মনোনয়ন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই আইনের আওতায় অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরও কেন দোলনের মনোনয়ন স্থায়ী রাখা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রার্থী মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকা বা জাল স্বাক্ষর থাকা—উভয়ই আইনগতভাবে অপরাধ। চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের উদাহরণে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর মিলায় নির্বাচন কর্মকর্তারা তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
ফরিদপুরের সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় ভোটার বলেন, “একই ধরনের জালিয়াতি অন্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাহলে আরিফুর দোলনের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত? আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন চাই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “নির্বাচন কমিশনকে সমান ও নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। ভিন্ন আচরণ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।”
আরিফুর রহমান দোলনের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমাদের মনোনয়ন সব নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমরা চাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হোক।”
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই বিতর্ক স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যে, নির্বাচন আইনের সমান প্রয়োগ কতটুকু নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিকট জনগণের দৃষ্টি এখন বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দাবি করছেন, যেকোনো প্রার্থী যদি আইনের উল্লঙ্ঘন করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অবশ্যই সমান ও স্বচ্ছভাবে নেওয়া হবে।