
স্টাফ রিপোর্টার :
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দায়িত্বরত উর্দ্ধতণ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ঘুস বানিজ্যে মত্ত কাস্টমস সিপাহী নিজাম। কখনো রাজস্ব কর্মকর্তা,আবার কখনো সহকারী কমিশনার নাম করে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আসা আমদানিকারক প্রতিনিধিদের কাছ হতে নিয়ত অবৈধ্য ঘুসের টাকা তুলছেন ধুরুন্ধর সিপাহী নিজাম। তার চাহিদামত ঘুসের টাকা না দিলে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের ফাইল নিয়ে কর্মকর্তাদের রুমে প্রবেশ করতে দেন না বলে একাধিক আমদানিকারক প্রতিনিধি অভিযোগ জানিয়েছেন। গত আগস্ট মাস হতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের হাউসের স্বচ্ছ অফিস কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে সুযোগ্য কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের নির্দেশে বেনাপোল কাস্টমসে দীর্ঘ বৎসর ধরে অবৈধ ভাবে কর্মরত এনজিও দের বের করে দেন। এরপর হতেই সিপাহী নিজাম ঘুস আদায়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর ফলে আমিদানী কারক প্রতিনিধি হয়রানীসহ পণ্য খালাস কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। সিপাহী নিজামের কাছে হয়রানির স্বীকার আমদানিকারক প্রতিনিধি সাগর সিপাহী নাজিমের ঘুস বানিজ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভারত হতে আমদানি পণ্য চালানের ফাইলে সাক্ষর করাতে সহকারী কমিশনার সাকিব রায়হানের অফিস কক্ষে প্রবেশের সময় সিপাহী নিজাম তার ফাইল আটকিয়ে ২৫শো টাকা গ্রহণ করেন। তার সামনে অনেকই ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিজামকে ঘুস দিয়ে ফাইল নিয়ে ঐ কর্মকর্তার রুমে প্রবেশ করতে দেখেছেন। অভিযোগ বিষয়ে জানতে সিপাহী নিজামের মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভুল ও হাউসে এ ধরেনের কাজ হয়না বলে কল কেটে দেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঘুস বানিজ্য ওপেন সিক্রেট। ঘুসের টাকা ছাড়া ফাইলে সাক্ষর করেন না কর্মকর্তারা।বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দীর্ঘ বৎসর ধরেই পুল বা টেবিলের টাকা দেওয়ার প্রথা চালু আছে। অফিসার ভেদে ফাইল প্রতি দুই হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা করে পুলের টাকা দিয়ে থাকে সি এন্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা। ঘুস গ্রহীতার নামে অভিযোগ করলে আমদানিকারকের হয়রানীসহ সিএন্ড এফ এজেন্ট ব্যাবসায়ীর লাইসেন্স লকসহ সাসপেন্ড করে দেন। গত ৬ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তারের ঘুসের প্রায় ১২ লাখসহ দুদকের হাতে আটক হয় এনজিও হাসিব। এঘটনায় পরে দুদক শামীমা আক্তারকে আটক করে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।ঘুস বানিজ্য ও আমদানিকারক প্রতিনিধি হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার সাকিব রায়হানের মুঠো ফোনে কল করলে প্রতিনিধিকে জানান,বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। উপযুক্ত প্রমান ও তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগীতা করবেন আমি ব্যবস্থা নিবো। আমদানিকারক প্রতিনিধিরা সরাসরি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে। আমার টেবিলে ফাইল পড়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য সূত্র মতে তবে কি? আমদানিকারক প্রতিনিধির কাছ হতে কর্মকর্তার টেবিলের পুলের টাকা তুলছেন সিপাহী নিজাম এমন প্রশ্ন?এখন জনমনে।