
মোঃ ইলিয়াছ খান ফরিদপুর প্রতিনিধি :
আজ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অত্যন্ত ২০ টি গ্রামের হাজারো মানুষ অংশ নেন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার এলাকায় তিনটি স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে গবাদি পশুর সহ ঘরে আসবাবপত্র ও মালা মাল। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সম্পত্তি এই বিরোধের জোরে উবায়নে তার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জাহিদ মাতুব্বর ও নুর ও মাতুব্বর বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা উভয়ই নেতাই বিএনপিতে যোগ দিয়ে গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মাঝে মাঝে এক পক্ষ আরেক পক্ষের সমর্থকদের উপর হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এরই জেরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা সড়কী,ভেলা, রামদা,ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায় এই সংঘর্ষ বালিয়া বাজার, কাঠিয়ার গট্টি ও বালিয়া গট্টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি,আড়ুয়াকান্দী,ঝুনাখালী, মেম্বার গট্টি,কানাইর, দিয়া পাড়া, জয়চাপ, আগুলদিয়া,মোড়হাটসহ, অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ অংশ নেন।
এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
সালথা থানার ওসি (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল বলেন, সকাল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয় দীর্ঘক্ষণ শেষটায় দুপুর ১২ টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের আপ্রাণ চেষ্টায়। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।