
আবু সালেহ মোঃ হামিদুল্লাহ কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসি ল্যান্ড নিজ দপ্তরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওএর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫৩ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাঈদুল ইসলাম ঢাকার দোহার উপজেলায় বদলী হওয়ায় এই দপ্তরটি শূন্য হয়ে যায়। তার অবর্তমানে কটিয়াদী উপজেলার এসি ল্যান্ড (ভূমি) কর্মকর্তা লাবনী আক্তার তারানা একাধারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও উপজেলার ৫০টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে তাকে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউএনওকে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময় কটিয়াদী পৌরসভার মেয়রকেও অপসারণ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৯ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বদলি হলে ওই দায়িত্বও এসি ল্যান্ডের ওপর অর্পিত হয় ।
এর পাশাপাশি উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব ভার দেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। ইউএনও পদ শূন্য থাকায় সে দায়িত্বও তাকে পালন করতে হচ্ছে। এতে তার ওপর দায়িত্বের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
এসব অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কটিয়াদীতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপর দিকে নিজ দপ্তর( ভূমি) অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে ভূমি সেবা প্রত্যাশীরা জানান, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাই চারটি দপ্তরের দায়িত্বে থাকায় সময়মতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। জমি নামজারি করতে এসে দেখি স্যার অন্য কাজে ব্যস্ত। দিনের পর দিন ঘুরছি।” অন্যদিকে (ইউএনও)’র দপ্তরে গেলে সেখানেও তাকে সঠিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে যথাযথ সরকারি সেবা পেতে জনগণের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অপরদিকে (এসি ল্যান্ড)কে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সহকারী কমিশনার ভূমি লাবনী আক্তার তারানা বলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈদুল ইসলাম স্যারের বদলির কারণে “নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এই দায়িত্বগুলো আমার ওপর অর্পিত হয়েছে। চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চাপের। তবুও সরকারি আইন অনুসরণ করে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অতিদ্রুত এই উপজেলায় নতুন ইউএনও পদায়ন করবেন। নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদান করলে দায়িত্ব ভাগাভাগি হয়ে কাজের গতিশীলতা ফিরে আসবে।”পরবর্তীতে সরকারি সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তির শিকার হতে হবেনা।
লোকবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক সেবার মান নিয়ে জনসাধারণ অসন্তোষ থাকলেও এসিল্যান্ড আশাবাদী যে অচিরেই এই সমস্যা সমাধান হবে। তবে সরকারি সেবা প্রত্যাশী ও ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, দ্রুত নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়োগ বা পদায়ন হলে সুশৃংখল কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সক্ষম হবে।
পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এবং সঠিক সময়ে সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।