
গত ১০ নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার নানা ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নতুন সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না করায় প্রশ্ন তুলছেন পাঠক, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ।
‘দুর্বৃত্ত’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ অধিকাংশ সংবাদ
বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়—সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় হিসেবে অধিকাংশ মিডিয়া “দুর্বৃত্ত”, “অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি”, “হামলাকারী” বা “একদল লোক”—এসব শব্দ ব্যবহার করছে। ফলে ঘটনাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ভূমিকা থাকলেও তা আড়াল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাঠকরা বলছেন, পরিচয়হীন শব্দ ব্যবহারে ঘটনার দায় বা প্রেক্ষাপট অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের তথ্য-নির্ভর গবেষণা ও ইতিহাস রচনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অতীতের ঘটনার তুলনা টেনে সমালোচনা
সমালোচকরা মনে করছেন—২০১২–১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা বা বিভিন্ন সময়ের হরতাল–অবরোধ চলাকালে একই ধরনের অগ্নিসংযোগ বা বিস্ফোরণের ঘটনায় গণমাধ্যম সরাসরি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করতো। ফলে সেই সময়ের ঘটনাগুলো ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিচয়সহই রয়ে গেছে।
বর্তমান ঘটনার প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিচয় না আসায় অনেকেই মনে করছেন—গণমাধ্যম কাভারেজে দ্বৈত মানদণ্ড তৈরি হয়েছে।
গণমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক সমাজের কিছু অংশ বলছে—পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দলের নাম উল্লেখ না করাকে কেউ কেউ সতর্কতা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন—এই সতর্কতা আগের ঘটনাগুলোতে দেখা না যাওয়ায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভবিষ্যতের ইতিহাসে বিভ্রান্তির আশঙ্কা
গণমাধ্যম গবেষকদের মতে, ঘটনাসমূহ যেমনভাবে সংবাদে নথিভুক্ত হয়, ভবিষ্যতের ইতিহাসও অনেকাংশে সেটিকেই অনুসরণ করে। তাই সহিংসতার খবর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা জরুরি বলে মত তাদের।