
চট্টগ্রাম নগরীর হৃদপিণ্ডখ্যাত মেরিনার্স রোডে কোতোয়ালী থানা পুলিশের সাহসিকতা ও সতর্কতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। গত কাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ চেকপোস্ট অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে এক লক্ষ (১,০০,০০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার এবং পলাতক চালকের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন এসআই (নিরস্ত্র) মিজানুর রহমান চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই তারেকুল ইসলাম, এএসআই সোহেল আহাম্মদ, এএসআই শাহ পরান জান্নাত এবং চেকপোস্টে নিয়োজিত ফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা।
থানা পুলিশ বিকেলেই গোপন সূত্রে জানতে পারে—কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। দ্রুতই পুলিশের টিম মেরিনার্স রোডের চামড়ার গুদাম সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে।
সন্ধ্যা প্রায় ৬টায় ঢাকা মেট্টো গ-৩৭-১৮৪৯ নম্বরের প্রাইভেটকারটিকে থামার সংকেত দিলে চালক গাড়িটি কিছুদূর সামনে থামিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তৎকালীন যানজটের কারণে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে গাড়িটি উদ্ধার করে জনসাধারণ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারটির পিছনের ব্রেক ঢালার ভেতর থেকে একটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে পাওয়া যায়—১০টি বড় প্যাকেট,প্রতিটি বড় প্যাকেটে অসংখ্য ছোট প্যাকেট,এবং প্রতিটি ছোট প্যাকেটে ১০,০০০ করে মোট ১,০০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে অদ্যাবধি এটি অন্যতম বড় উদ্ধার বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রাইভেটকারটির প্রকৃত মালিক এবং পলাতক চালকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোন আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়—“চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়ে আমরা কাজ করছি।”