
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়াড়জোড় গ্রামে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ কেওয়াড়জোড় বাজারসংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত বড়আঢি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার হিসেবে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাহেদকে পুনরায় নিয়োগের লক্ষ্যে ওই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পংকজ দেবনাথ এবং সঞ্চালনা করেন মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক কৃষক ও সাধারন মানুষ এতে অংশ নেন।
এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার সমর্থকরা ম্যানেজার সাহেদের পক্ষে সমর্থন জানালেও, একজন মহিলা কৃষাণী আঁখিনূর আক্তার স্বর্ণা নিজেকে ম্যানেজার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
আঁখিনূর আক্তার স্বর্ণা কেওয়াড়জোড় এলাকার জনহিতকর কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ও মৃত কামাল হোসেন ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। স্থানীয়ভাবে পরিচিত কামাল হোসেন ছিলেন কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসায়ী। তার মৃত্যুর পর আঁখিনূরকে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, সরকারি বৃক্ষ কর্তন ও মাটি ভরাটের নামে প্রকল্প তছরুপের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করায় একটি প্রভাবশালী মহল তার ওপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মিঠামইন উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তী তারিখে সভা আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, “উভয় পক্ষের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সভাটি স্থগিত করতে বলি এবং পরিস্থিতি শান্ত করি।এই বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন,যথা সময়ে ওসি মহোদয়ের পদক্ষেপে পুলিশ এসে পরিবেশ একেবারে অনূকূলে নিয়ে এসেছেন বলে তারা জানান৷
অন্যদিকে উপজেলা সেচ ইউনিটের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর থেকে মিঠামইন সেচ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় তিনি প্রায় সময় নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অবস্থান করেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে পকেটমানির বিনিময়ে কমিটি অনুমোদনের প্রথা চালু রয়েছে। অতীতেও প্রকল্প বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ শোনা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আগত বোরো মৌসুমের আগে সেচ প্রকল্পগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সঠিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।