1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
আলফাডাঙ্গায় ২০ টাকার জন্য বন্ধুর হাতে খুন ১৩ বছরের মাদ্রাসার ছাত্র - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আলফাডাঙ্গায় ২০ টাকার জন্য বন্ধুর হাতে খুন ১৩ বছরের মাদ্রাসার ছাত্র

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৭ বার পঠিত

মোঃ ইলিয়াছ খান ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শিশু মাদ্রাসার ছাত্র আমির হামজা ওরফে হানযালা (১৩) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যার মূলহোতা হিসেবে আটক করা হয়েছে চর চান্দড়া গ্রামের জাহিদুল ফকিরের ছেলে,একই মাদ্রাসার ছাত্র ফরহাদ রেজা (১৬)। মাত্র ২০ টাকার বিরোধ থেকেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এএসপি জানান, গত সোমবার (২০ অক্টোবর) নিহত হানযালার বাবা সায়েম উদ্দিন বিশ্বাস থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম। তদন্ত চলাকালেই মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চান্দড়া মাদ্রাসার পাশে ডোবায় ভাসমান অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করে খুললে ভেতরে পাওয়া যায় হানযালার অর্ধগলিত মরদেহ। বস্তার ভেতরে কয়েকটি ইটও ছিল।

এএসপি আজম খান বলেন, ঘটনার রাতে আমি মধুখালী থেকে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করি। পরে সকালে চারটি টিমে ভাগ হয়ে মাঠে নামি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত শুরু করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, ফরহাদ ও হানযালা দুজনেই চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার জামাত খানারঅন্যজন হিফয বিভাগের ছাত্র। হানযালার কাছ থেকে ফরহাদ ৫০ টাকা ধার নেয়, যার মধ্যে ৩০ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ২০ টাকার জন্য মনোমালিন্য হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটায় ফরহাদ।

এএসপি বলেন, আসরের নামাজের পর ফরহাদ হানযালাকে বলে চলো, বাড়ি থেকে টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এরপর তারা মাদ্রাসার পেছনের ধানক্ষেত হয়ে পাশের বাগানে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফরহাদ ক্ষিপ্ত হয়ে হানযালার গলা চেপে ধরে। তখনই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর ফরহাদ মাদ্রাসায় ফিরে এসে মাগরিবের নামাজ পড়ে, ক্লাস করে এবং রাতে স্বাভাবিক আচরণ করে। পরদিন ভোরে বাড়ি গিয়ে একটি বস্তা ও ইট নিয়ে আসে। হানযালার মরদেহ বস্তায় ভরে পাইজামার ফিতা দিয়ে মুখ বস্তার বেঁধে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। এরপর মাদ্রায় গিয়ে গোসল করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এএসপি আজম খান আরও বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে, ফরহাদ রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,তবে ফরহাদ বলছে সে এ ঘটনা একাই ঘটিয়েছে।

চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, দুজনই আমাদের মাদ্রাসার ছাত্র। এত অল্প বয়সে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে, আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। পুরো মাদ্রাসায় এখন শোকের ছায়া।

নিহত হানযালা আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েম উদ্দিন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

বাবা সায়েম বিশ্বাস কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন,
আমার মাসুম বাচ্চাটা কী দোষ করল, যে ওকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করল! আমার তিনটা মেয়ে, একটাই ছেলে ছিল হানযালা। আমি খুনিদের বিচার চাই।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু হানযালার নিষ্পাপ মুখ মনে পড়লেই চোখ ভিজে যাচ্ছে স্বজন ও প্রতিবেশীদের।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ