1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
প্যানেল সংকটে সম্মিলিত পরিষদ, ঐক্য পরিষদের জোয়ার,বিএসএএ নির্বাচনে আলোচনার ঝড় - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্যানেল সংকটে সম্মিলিত পরিষদ, ঐক্য পরিষদের জোয়ার,বিএসএএ নির্বাচনে আলোচনার ঝড়

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৮ বার পঠিত

মোঃ শহিদুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ)-এর ২০২৫–২০২৭ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে চট্টগ্রামের শিপিং মহলে। আগামী ৯ অক্টোবর টাইগার পাসস্থ নেভি কনভেনশন সেন্টারে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী।

তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল সংকট। অন্যদিকে, ঐক্য পরিষদ পূর্ণাঙ্গ ২৪টি পদে প্রার্থী ঘোষণা করে এখন নির্বাচনী মাঠে কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরপর দুই মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদে থাকা সদস্যরা এবারে প্রার্থী হতে পারছেন না। পাশাপাশি, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক ছাড়া প্রতিনিধি প্রার্থী হতে পারবেন না। এই বিধানের ফলে, সম্মিলিত পরিষদের গত বোর্ডের ২৪ জন পরিচালকের মধ্যে ২২ জনই অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।

অবশিষ্ট দুইজনের মধ্যে একজন প্রার্থী হননি, অন্যজন আবার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অংশ নিয়েছেন। ফলে সম্মিলিত পরিষদ চরম প্রার্থী সংকটে পড়ে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি তাদের চেয়ারম্যান প্রার্থীও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ঐক্য পরিষদ ২৪টি পদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে।
চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী (নাফ মেরিন সার্ভিস)। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজিম রহিম চৌধুরী (কে এম সি শিপিং লাইন) এবং মো. আলী আকবর (সেভেন সীজ শিপিং লাইনস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. মশিউল আলম স্বপন (এ.এ. শিপিং সার্ভিসেস) ও ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ (মার্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া পরিচালক (জেনারেল ও অ্যাসোসিয়েট) ক্যাটাগরিতে রয়েছে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রার্থী—যাদের মধ্যে আছেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী, অঞ্জন মজুমদার, সরফরাজ কাদের (রাশেল), দিদারুল আলম চৌধুরী, প্রফেসর নূর উন নবী (ইমরান), আনামুল করিম, আকিব হাসনাত সামসী, শফিউল আলমসহ আরও অনেকে।

ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, “অভিজ্ঞতা, সততা ও ঐক্যের ভিত্তিতে গঠিত এই প্যানেল বিএসএএ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনবে।”

সম্মিলিত পরিষদ এবারে মাত্র ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পেরেছে।
চেয়ারম্যান পদে আহসান ইকবাল চৌধুরী আবির (ইন্টারমডেল পিটিই
লিমিটেড),সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল মালেক (বেঙ্গল শিপিং লাইন),অপর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে জহুর আহমেদ (সীকম শিপিং লাইনস),ভাইস চেয়ারম্যান পদে আকতার কামাল চৌধুরী (সিনোবেন শিপিং কো. লি.)।

পরিচালক পদে আছেন তোহিদুল ইসলাম (এবিসি শিপিং লাইনস), আহমেদ তাসিন আসাদুল্লাহ (ইন্টারপোর্ট শিপ এজেন্টস), শহীদ উল্লাহ চৌধুরী (দ্য আকিব শিপিং লাইনস) এবং জুনাইদ আহমেদ রাহাত (মিউচুয়াল শিপিং লিমিটেড)।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএসএএ-এর সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী (ভেগা মেরিন প্রা. লি.)।

শিপিং খাতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্বে থাকা কিছু প্রভাবশালী সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা অ্যাসোসিয়েশনকে “ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক লুটপাটের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে প্রশাসক বসানোর অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই তারা এখন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল নিচ্ছে। এমনকি কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে ঐক্য পরিষদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঐক্য পরিষদের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমরা বিশ্বাস করি, সদস্যরা অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের জবাব ভোটের মাধ্যমে দেবেন। সততা, ঐক্য ও পরিবর্তনের প্রতীক ‘ঐক্য পরিষদ’-এর প্রার্থীরাই এবার বিজয়ী হবেন।”

চট্টগ্রামের বাণিজ্য ও শিপিং মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল সংকট কি তাদের দীর্ঘদিনের প্রভাবের পতনের ইঙ্গিত? নাকি ঐক্য পরিষদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি নতুন নেতৃত্বের সূচনা ঘটাবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ৯ অক্টোবরের ভোটের বাক্স খুললেই।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ