
মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম মহানগরের দক্ষিণ পতেঙ্গার মাইজপাড়ায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার বিকেলে দলীয় নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রয়াত লোকমান হোসেন কন্ট্রাক্টর-এর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রয়াত লোকমান হোসেন ছিলেন পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, সমাজসেবক ও শিক্ষাসংগঠক হিসেবে এলাকার পরিচিত মুখ। তাঁর মৃত্যুতে পতেঙ্গা বিএনপি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোক নেমে আসে।
আমির খসরু তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং বলেন—
“আমরা বিএনপির একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতির সেবক ও ত্যাগী কর্মীকে হারিয়েছি। লোকমান ভাই ছিলেন দলের প্রতি অনুগত, জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এমন নেতা পাওয়া এখন অনেক কঠিন।”তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমির খসরু বলেন,“আগামী নির্বাচনে নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে মাঠে থাকতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই বিএনপির প্রকৃত শক্তি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম হচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক ঘাঁটি। এখানকার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সরকার পতনের আন্দোলনে বিজয় অনিবার্য।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ এম এ আজিজ, মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী মো. মুজিবুল হক কোম্পানি, পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নূরুল আবছার, সাবেক কমিশনার ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন, সহসভাপতি মো. আবু জাফর, হাজী মো. হারুন কোম্পানি, ৪১ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হুদা চৌধুরী (নাজিম), সদস্য সচিব মো. আলী আজম, ৪০ নং ওয়ার্ড আহ্বায়ক মো. লোকমান, সদস্য সচিব মো. মনজুর কাদের।
এছাড়াও ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজা, বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম, মো. সালাউদ্দিন, মো. সায়েম, যুবদল নেতা মো. ইকবাল হোসেন, শ্রমিক দলের মো. সোলায়মান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মো. সালাউদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
আমির খসরুর সফর ঘিরে পতেঙ্গা এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মরহুম লোকমান হোসেন এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে সবসময় ছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে এলাকাবাসীর চোখে জল ও কণ্ঠে প্রার্থনা—
“লোকমান ভাই ছিলেন এলাকার মেহনতি মানুষের আশ্রয়স্থল। তাঁর আদর্শ আমরা ধারণ করে রাখব।”
শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মরহুম লোকমান হোসেন কন্ট্রাক্টরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করেন।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন—“লোকমান হোসেনের মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতা হারিয়ে সংগঠন যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি তাঁর শূন্যতা পূরণ হবে না সহজে।”