1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
মান্দা থানায় 'ঘুষের রাজত্ব' ও রাজনৈতিক প্রতারণা: বিদায়ী ওসি মনসুরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পাহাড় - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মান্দা থানায় ‘ঘুষের রাজত্ব’ ও রাজনৈতিক প্রতারণা: বিদায়ী ওসি মনসুরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পাহাড়

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৬৮ বার পঠিত

আব্দুল মালেক স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ:

নওগাঁর মান্দা থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’, প্রভাবশালী দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং বিতর্কিত অতীত আড়াল করতে রাজনৈতিক পরিচয়ের মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তিনি মান্দা থানায় যোগদান করেছিলেন বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো ও প্রতারণার মাধ্যমে পদ লাভ

ওসি মনসুর রহমানের বিগত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লব পরবর্তী সরকার ঘোষণা করেছিল যে, পূর্বে যারা কখনো ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি, তারাই থানার ওসি হবেন। অথচ মনসুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাটোর সদর, পাঁচবিবি এবং পোরসা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সেই সময় ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের যন্ত্র হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার’ হতেন। প্রতিটি দিবসে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন, দান-খয়রাত করতেন এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতি ‘গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করতেন।

তার রাজনৈতিক ভোল পাল্টানোর দাবির বিপরীতে, তিনি ২০২১ সালে সরাসরি বিএনপি’র রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মিছিলে হামলা করে ব্যাপক লাঠিচার্জ করেন, যাতে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন, যার নিউজ ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত। এছাড়া, প্রতিটি থানাতেই তিনি দুর্ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঘুষের বিশাল বাণিজ্য সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ। এই বিতর্কিত অতীত আড়াল করতেই তিনি বিপ্লব পরবর্তীকালে নিজেকে ‘কট্টর বিএনপি’ বলে মিথ্যা প্রচারণায় মত্ত হন। পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে এবং বঞ্চিত হওয়ার মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে তিনি মান্দা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন।

মান্দা থানায় ‘টাকার বিনিময়ে বিচার’ ও দালালতন্ত্র

গত ৫ আগস্ট মান্দা থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই ওসি মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও একপ্রকার ‘সালিশ বাণিজ্য’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মান্দা উপজেলায় জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে প্রশাসনের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

নিরীহ মানুষকে টাকার বিনিময়ে মামলা, চার্জশিট কিংবা জামিনে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ বহু। একজন ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, তাকে গ্রেফতার না করার শর্তে ওসি মনসুর রহমান তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়। ভারশোঁ গ্রামের ডলি আক্তার আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন—মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুলিশ বহিরাগত ১৫-২০ জন দালাল নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেয় এবং নগদ এক লাখ টাকাসহ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

মামলা নিতে গেলে ঘুষ দাবি করা হতো এবং ‘টাকা ছাড়া ন্যায়বিচার নেই’ বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ভারশোঁ ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা বা ছোট মুল্লুক গ্রামের আশরাফুল ইসলাম গুরুতর অপরাধের শিকার হয়েও মামলা করতে না পারায় আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর জানান, “উপরে থেকে চাপ থাকে নির্দিষ্ট লোকজনের সাথে কাজ করতে, অনেক কিছুই আমাদের হাতে থাকে না।”

ওসির উদ্ধত প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের নীরবতা

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী ওসি মনসুর রহমান বিষয়গুলো সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “আমার মনে নেই ওই রকম কোনো ঘটনা ঘটেছে। আপনি ভুক্তভোগীদের নিয়ে আসেন, এখনই মামলা করে দিচ্ছি।” অন্যদিকে, আইওরপাড়া বাজারের ঘটনা প্রসঙ্গে এসআই শামীম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা স্বীকার করলেও মামলা না হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। ঘটনার বিষয়ে মান্দা থানার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজ এই গুরুতর অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে তিনি যেন আর কোনো থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব না পান,আর কাউকে হয়রানি না করতে পারে সেই জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মান্দার স্থানীয় জনগণ অনুরোধ জানান।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ