1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
নওগাঁয় মব সৃষ্টি করে জামায়াত নেতাকে ফাঁসাতে ছাত্রীকে দিয়ে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ। - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত জেলা অফিস-বদলী হলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভালুকায় সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটির ব্যবসার অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী নন্দীগ্রামে জাকের পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দাওয়াতী মিশন সভা ভোগান্তিতে ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচারীঘাটা এলাকার বাসিন্দারা, কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এস এম নাজমুল ইসলাম ভালুকায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিও জোরালো বটিয়াঘাটায় বৃদ্ধকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, থানায় এজাহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়  সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বুড়ইল ইউনিয়ন কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় মব সৃষ্টি করে জামায়াত নেতাকে ফাঁসাতে ছাত্রীকে দিয়ে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ।

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৪ বার পঠিত

 

আব্দুল মালেক স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ:

নওগাঁয় বিএনপি পন্থী মাদরাসা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ছাত্রীকে ব্যবহার করে যৌন হয়রানির নাটক করে মাদরাসার এক সিনিয়র শিক্ষককে চরম হয়রানী ও চাকরিচ্যুতির অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

এতে নওগাঁ জেলার সব উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীদেন মাঝে এখন খুব ফুরফুরে মেজাজ বিরাজ করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, মিথ্যা অভিযোগ আনা ওই ছাত্রীর ধর্ষণের কোন আলামত প্রকাশ্যে প্রমানিত না হলেও কতিপয় শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে পড়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোনায়েম হোসাইনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এক জরুরী সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরপরই রোববার রাতে তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে তাকে দেওয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

মাদরাসার বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের এক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিতে গিয়ে এক ছাত্রীকে একা পেয়ে নাকি শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন শিক্ষক মোনায়েম হোসাইন। পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রীকে আবারও একা পেয়ে নাকি জোরপূর্বক চুম্বন করেন তিনি। এ ঘটনাটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে এলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা তার ভোটের সাঁটানো পোস্টার সম্বলিত ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান। একই সাথে দ্রুততম সময়ে এ ঘটনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির দিন দুপুরে শ্রেণি কক্ষে তিনি নাকি একাই অবস্থান করছিলেন। ওই সময়ে সেখানে ক্লাস নিতে এসে শিক্ষক মোনায়েম হোসাইন তাকে নাকি বোরকার হিজাব খুলতে বলেন। এক পর্যায়ে বাধা দিলেও তিনি নাকি শোনেননি। পরে তিনি শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন। আরেকদিন একা পেয়ে নাকি জোরপূর্বক চুম্বন করেছেন। পরে এ ঘটনা সহপাঠীদের জানালে একইভাবে আরও বেশ কয়েকজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান। পরে ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে।

এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মোনায়েম হোসাইনকে বিএনপি পরিবারের সব শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করে মবের সৃষ্টি করেন ওই মাদরাসার আরেক বিএনপিপন্থী শিক্ষক সালেক রহমান। সেখানে মবের শিকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার সুযোগটাও দেয়া হয়নি। ওইদিন রাতে ভিডিও ধারণকারী ওই শিক্ষকের মোবাইলে কল করে নাকি আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। কতটা মিথ্যা গোঁজামিল ও মিডিয়া ট্রায়ালের হয়রানির অভিযোগ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মোনায়েম হোসাইন বলেন, “আমি চরম ষড়যন্ত্র, দাঙ্গা ও মবের শিকার হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কিছু বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও বিপক্ষ দলের কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে ওঠে পড়ে লেগেছে। যাতে বড় রকমের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে চাকুরীচ্যুতি করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমি আসন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়তে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে তার পোষ্টার ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্রার্থীদের মধ্যে হারার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করতে না পারি। যৌন হয়রানির বিষয়টি একটি সাজানো মিথ্যা নাটক। আমি ষড়যন্ত্রের কুশিলব ও মবে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার চাই।

নওগাঁ জেলা জামায়াত সেক্রেটারি আ স ম সায়েম বলেন, তদন্তের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এটি ছিল সাজানো একটি নাটক। এ মিথ্যা নাটকের বলির পাঠা হলেন তিনি। তবে ঘটনা যাতে বড় বেশি আকার ধারণ না করতে পারে, সেজন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ভালোর জন্য এমন সিদ্ধান্ত আসে। এ ঘটনাটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক অপচেষ্ঠা করা হয়েছে। এর আগেই তাই নওগাঁ জেলার একজন জামায়াত নেতা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী তাকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে।

যে ৫/৬জন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তদন্ত করে দেখা গেছে তারা প্রত্যেকে বিএনপি পরিবারের মেয়ে ছিল। একজন শিক্ষকের হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও শিখিয়ে দেয়া কথাগুলোই মিডিয়ায় গুছিয়ে বলতে বাধ্য করেছে ওইসব ছাত্রীদের। এজন্য আগেই পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মব ও দাঙ্গা সংঘটিত করা হয়েছে। তাই দ্রুতই বিএনপি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মতো হাতিয়ার হিসেবে নারী দিয়ে চরিত্র হননের কাজটি সম্পাদন করতে পেরেছে অত্যন্ত সূচারুরূপে।
তিনি আরো বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর দুইটি হাতিয়ার ছিল এক নাম্বার জঙ্গি তকমা লাগানো। আর ২ নাম্বার যাদের জঙ্গি তকমা দিয়ে না পারতো তাদের নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া।

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আবদুর রাকিব বলেন, মোনায়েন হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো উঠার পরপরই ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওইসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

তিনি আরো বলেন, সেখানে মোনায়েম হোসাইনের কোন অপরাধের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। তথাপি দলের গায়ে যেন কোন কালিমা লেপন না হয়, সেজন্য তাকে আপাততঃ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই মোনায়েম হোসাইনের সাথে জামায়াতের এখন কোন সম্পর্ক নেই।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ