1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
কোচিং বাণিজ্য ও আইন প্রয়োগ, শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ অরক্ষিত - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘায় রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতা নয়, প্রমাণ করে চলেছেন যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান সুমন এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ডালপালার ঝাড়ু—এক যুগের বেশি সময় ধরে কবরস্থানের নীরব সেবক অ্যাডভোকেট মওলা বক্স তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিরামপুরে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলা বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিরামপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ত্রিশালে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ২০ দিন ধরে নিখোঁজ মোহাম্মদ রাহেল খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপের উদ্বোধনে উঠল কাটলার খেলার মাঠের দাবি বিরামপুরে খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ উদ্বোধন, খালেদা জিয়ার চরিত্রে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজুক সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখির উদ্বোধনে নবাবগঞ্জে চালু সিজারিয়ান অপারেশন, প্রথম দুই প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার

কোচিং বাণিজ্য ও আইন প্রয়োগ, শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ অরক্ষিত

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৬২ বার পঠিত

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

বাংলাদেশে শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বিগত কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে, কোচিং সেন্টার বা ব্যক্তিগত টিউশনি একটি বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে কোচিং বা ব্যক্তিগত পড়াতে বাধ্য করেন। ফলে অভিভাবকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করতে সরকার “শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা, ২০১২” প্রণয়ন করেছে।

বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এদের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয় নিয়মের বাইরে। বিদ্যালয়ের পাঠদানে যথেষ্ট জোর না দিয়ে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করেন। এর ফলে—
শিক্ষা ব্যবসায়িক রূপ ধারণ করে।
অভিভাবকের আর্থিক চাপ বাড়ে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের পাঠদান দুর্বল হয়ে পড়ে।
এমনকি অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফটকেও কোচিং সেন্টারের পোস্টার দেখা যায়, যা সরাসরি সরকারি নীতিমালা ও শিক্ষার আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
২০১২ সালে সরকার “কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা” প্রণয়ন করে। এর মূল বিষয়গুলো হলো—

১. কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং বা ব্যক্তিগত টিউশনি করতে পারবেন না।
২. স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে বা ফটকে কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন, পোস্টার, ব্যানার টানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. যদি কোনো শিক্ষক এই নীতিমালা ভঙ্গ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রয়োজন হলে চাকরি থেকে অব্যাহতি পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে।
৪. শিক্ষার্থীদের বিনা কারণে বাধ্যতামূলকভাবে কোচিংয়ে পাঠানো হলে, সেটি আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৫. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি রয়েছে, যারা এসব কার্যক্রম তদারকি করবে।
এই আইনের মাধ্যমে মূলত শিক্ষাব্যবস্থার মূল কাঠামোকে রক্ষা করা হয়েছে। শিক্ষককে কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রতি মনোযোগী করার লক্ষ্যেই এই নীতিমালা। কারণ, শিক্ষা যদি কেবল কোচিং নির্ভর হয়, তবে জাতীয় শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।

যদিও আইন প্রণয়ন হয়েছে, বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। কারণ অনেক শিক্ষক নিয়ম ভঙ্গ করেও পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে রেহাই পান।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ