
জাকিয়া বেগম (বিশেষ প্রতিনিধি)
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে নাজমুল হক নামে এক যুবককে অপহরণ, মারধর ও তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে ত্রিশাল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলার সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, গত ১১ জুন ত্রিশালের বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচ থেকে এসআই নাহিদ পারভেজসহ স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি সিএনজিতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে নাজমুলকে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নাজমুলকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে নাজমুলের পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ নাজমুলকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে নিয়ে যায় বলে পরিবারটির দাবি।
ঘটনার পরদিন নাজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরবর্তীতে তারা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের আসামি এসআই নাহিদ পারভেজসহ অন্যরা লিগ্যাল এইড অফিসে হাজির হননি। ফলে বিষয়টি সেখানে নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত ত্রিশাল থানাকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর সোমবার ত্রিশাল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
জানা গেছে, এসআই নাহিদ পারভেজ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাকে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই নাহিদ পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মামলার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।