মো:আবদুল লতিফ,ষ্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর বুকে ভাসমান নৌকায় জীবন যাপন করছে অসংখ্য জেলে পরিবার।প্রচন্ড শীতের সাথে যুদ্ধ করে মানতা সম্প্রদায়ের ওই ভাসমান জেলেদেরকে টিকে থাকতে হচ্ছে। নদীর বুকে শীত মানে এক বিশাল বরফখন্ডের নিচে বাস করা।নদীর কালচে পানির উপর ভাসমান ওই নৌকাগুলোই তাদের ঘর,বিছানা,রান্নাঘর আর বেঁচে থাকার একমাত্র ঠিকানা।এই নৌকাতেই জন্ম,এই নোকাতেই বেড়ে উঠা, আবার এই নৌকাতেই মৃত্যু হয় ওদের।
তাদের এমনই ভাগ্য যে,অনেক সময় মৃত ব্যাক্তির দাফন -কাফন ও ভাগ্যে জোটেনা।এমনকি মৃত ব্যাক্তির লাশ নদীতে ফেলে দিতে হয়।গত কয়েকদিন ধরে রায়পুরে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেঘনা নদীতে ভাসমান জেলে সম্প্রদায়ের লোকগুলো।কনকনে শীতে রাতভর কাঁপছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই।ঘুম নেই তাদের চোখে।ঠাণ্ডা বাতাসে যেন তাদের শরীর বরফ হয়ে যায়।
গত ৭ দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহের কারনে অনেকেই নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারছেনা।নৌকাতে বসেই অলস জীবন যাপন করছে তারা।নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়,একটা পাতলা কম্বল গায়ে জড়িয়ে নৌকার এক কোনে গুটি সুটি হয়ে শুয়ে আছে শিশুরা।নৌকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার কোন উপায় নেই।নদী থেকে ভেসে আসা বাতাস যেন ওদের বুক চিরে ঢুকে পড়ে।প্রচন্ড শীতে মানুষ ঘরে ফিরলেও মানতা সম্প্রদায়ের মানুষদের ফেরার কোন ঘর নেই।ভাসমান নৌকাই তাদের শেষ আশ্রয়।
নৌকায় ভাসমান মানতা সম্প্রদায়ের সুফিয়া খাতুন ও আসমা আক্তার বলেন,আমরা জন্মের পর থেকে নৌকাতেই আছি,কখনো ঘরে শোবার আনন্দ পাইনি।শীতে বাচ্চারা কাঁদে, কিন্তু আমাদের করার কিছুই নেই।বৃদ্ধ জলিল মাঝি বলেন,গরমকালে রোদ,বর্ষাকালে বৃষ্টি আর শীতকালে ঠান্ডা,সবই আমাদের সইতে হয়।নদীর বাতাস প্রচন্ড ঠান্ডা, মনে হয় শরীরটা জমে যাচ্ছে। একদিন মাছ ধরতে না পারলে চুলাও জ্বলেনা।মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন,নদীতে ভাসমান জেলে সম্প্রদায়ের বিষয়টা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।খুব দ্রুত সরকারি সহায়তা নিয়ে তাদেরকে পৌছানো হবে।চাল ও শীতবস্ত্র বিতরন করা হবে।ইতিমধ্যে কিছু শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।