1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
ঝাড়ুদার হতে কোটিপতি কাস্টমস সিপাহী মুসা! নেপথ্যে ঘুস বানিজ্য - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘায় রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতা নয়, প্রমাণ করে চলেছেন যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান সুমন এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ডালপালার ঝাড়ু—এক যুগের বেশি সময় ধরে কবরস্থানের নীরব সেবক অ্যাডভোকেট মওলা বক্স তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিরামপুরে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলা বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিরামপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ত্রিশালে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ২০ দিন ধরে নিখোঁজ মোহাম্মদ রাহেল খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপের উদ্বোধনে উঠল কাটলার খেলার মাঠের দাবি বিরামপুরে খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ উদ্বোধন, খালেদা জিয়ার চরিত্রে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজুক সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখির উদ্বোধনে নবাবগঞ্জে চালু সিজারিয়ান অপারেশন, প্রথম দুই প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার

ঝাড়ুদার হতে কোটিপতি কাস্টমস সিপাহী মুসা! নেপথ্যে ঘুস বানিজ্য

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার;

বেনাপোল কাস্টমস্ হাউসের সিপাহী মুসা কোটিপতি হওয়ার নেপথ্য রয়েছে অবৈধ্য ঘুস বানিজ্য। চাকরি জীবনের শুরুটা বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের বাসার ঝাড়ুদার হিসাবে হলেও মেধা ও চতুরতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা পূর্বক জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে অল্প সময়েই বাগিয়ে নিয়েছেন কাস্টমস্ হাউসের সিপাহী পদের চাকরি।

সরকারী রাজস্ব ফাঁকি কাজে নিয়মিত সহযোগীতা দিয়ে লাখ লাখ টাকা অবৈধ্য ঘুস বানিজ্যের মাধ্যমে খুলনার বয়রা এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন। মুসার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ,গাড়ী ও বাড়ির হিসাব দেখলে চক্ষু চড়ক গাছ যার অধিকাংশই বেনামে স্ত্রী ও শশুরালয়ের আত্নীয় স্বজনের নামে ক্রয়কৃত বলে জানা গেছে। সিপাহী পদে সামান্য বেতনে চাকরি করে অল্প সময়ে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হওয়া অসম্ভব হলেও তা সাধন করেছেন মুসা ওরফে মুসা রনি।

পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও সিপাহী মুসা এখন খুলনার আভিজাত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। মুসা বর্তমানে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের আনস্টেপিং শাখার সিপাহী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।এনজিও ফিরোজ বাদ যাওয়ায় আমদানিকারক প্রতিনিধিদের কাছ হতে উর্দ্ধতণ কর্মকর্তাদের ঘুসের টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে মুসা বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশান এর সিপাহী হিসাবে কর্মরত ছিলো। সে সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের সাথে ল্যাগেজ সুবিধায় আনা অতিরিক্ত পণ্য সরকারী শুল্ক ছাড়াই পার করেই প্রতিদিন হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করে গোয়েন্দা সদস্যদের টাকা উত্তোলনকারী লিটন ওরফে গোয়েন্দা লিটন।

গত বৃহষ্পতিবার( ২৭ নভেম্বর ২৫ ইং তারিখ )বিকালে ভারত থেকে পাসপোর্ট যাত্রীর সাথে আনা শুল্ক ফাঁকির ৫টি ভারতীয় কম্বল বাংলাদেশ ইমিগ্রেশান পার করার সময় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের হাতে আটক হন তিন আনসার সদস্য। তারা হলেন আতিকুর রহমান ( আইডি নং-০৫৫০৮৪৭২৯),রিয়াজুল ইসলাম ( আইডি নং-১৯১৬৫২০) ও ইসমাইল হোসেন( আইডি নং-৫৯৬৬৫৩৩০৩৫)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনসারদের প্লাটুন কমান্ডার পিসি বলেন প্রাথমিক ভাবে ঐ তিন সদস্যকে মোচলেকা নিয়ে ক্লোজ করে নেওয়া হয়েছে।

আনসার সদস্য আটক কান্ডেই মূলত সিপাহী মুসা রনির থলের কালো বিড়াল বের হয়ে পড়ে। আনসার হতে শুরু করে কমিশনার পর্যন্ত ম্যানেজ করেই ল্যাগেজ সিন্ডিকেট পরিচালনা করত মুসা। ডিউটি বদলী সূত্রে কাস্টমস ভবনে ডিউটি করলেও তার কল কাঠীতেই চলে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশানের পণ্য শুল্ক ফাঁকির ল্যাগেস পারা পার সিন্ডিকেট।

সিপাহী মুসার সম্পর্কে ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়,বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পূর্বে কর্মরত সিপাহী মোসলেম আলীর হাত ধরে আনুমানিক ২৭ বছর আগে তৎকালীন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনারের বাস ভবনের ঝাড়ুদারের কাজ পান মুসা।ঐ চাকরীটাই সাপে বর হয়ে ঘুস বানিজ্যের মাধ্যমে মুসা অঢেল অর্থ সম্পত্তিসহ কালো টাকার মালিক বনেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কাস্টমস কর্মকর্তা জানান,বেনাপোল এলাকার স্থানীয় ল্যাগেজ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মুসার রয়েছে গভীর সখ্যতা। সে সুবাধে ইমিগ্রেশানে দায়িত্বে থাকা আরো এবং এ আরো দের রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীর সাথে আনা অতিরিক্ত পণ্য শুল্ক পরিশোধ বাদেই ছাড় করিয়ে নেয়। এমনিকি মুসার চাহিদা মত পাসপোর্ট যাত্রী টাকা দিলে যাত্রী ল্যাগেস স্ক্যানার মেশিনে না তুলে বা চেকিং ছাড়াই পার করে দেই যা সম্পূর্ন বিধি বর্হিভূত কান্ড।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে মুসার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদক কে জানান, বিগত ২০১৬ সালে আমি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সিপাহী পদে যোগদান করি। এর পূর্বে আমি উক্ত কাস্টমস হাউসে মাস্টার রোলে চাকরি করতাম। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মুসার সিপাহী পদের চাকরির নিয়োগ পক্রিয়া পুরাটাই অস্বচ্ছ।নিয়োগ কালীন তার দাখিলকৃত শিক্ষা সনদ জাল জালিয়াতির আদলে তৈরী যা সংশ্লিষ্ট মহলের সুষ্ঠ তদন্তে বের হবে। সে দীর্ঘ বৎসর বেনাপোল কাস্টমসে চাকুরী করে রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা দিয়ে ঘুস বানিজ্যের মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক বনেছেন বলে নিশ্চিত করেন।

সিপাহী মুসার মত ঘুসখোর সরকারী কর্মচারীদের দ্বারা সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হলেও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বা অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় অনৈতিক কর্মকান্ডে আরো উৎসাহিত হচ্ছে ও রাতারাতি তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ