
মো:আবদুল লতিফ,ষ্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বহুল প্রত্যাশিত মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও থমকে আছে প্রকল্পের কাজ। মাঠ সমতল করার পর আর কোনো দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়—৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি, সীমানা প্রাচীর, ড্রেসিং রুম, ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা মাঠের উন্নয়ন কোনোটিরই উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। পুরো মাঠজুড়ে ফেলে রাখা বালু আর ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা নির্মাণ সামগ্রী দেখেই স্থবিরতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ থমকে যাওয়ায় হতাশ স্থানীয় জনসাধারণ ও ক্রীড়াবিদরা। তারা বলেন, রায়পুরে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ মানুষের বিরাট একটা স্বপ্ন ছিল। মানুষের আশা ছিল চলতি বছরেই রায়পুরবাসী ওই স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। কাজের সঠিক তদারকি নেই, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ক্রীড়া সংগঠক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “রায়পুরে খেলাধুলার জায়গা নেই বললেই চলে। এই স্টেডিয়ামটাই আমাদের ক্রীড়া উন্নয়নের ভবিষ্যৎ। অথচ কাজের গতি দেখে মনে হয় কারও কোনো দায় নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (প্রা:) লিমিটেড শুরু থেকেই ঢিলেঢালা ভাবে কাজ শুরু করেছে। কাজের মেয়াদ ৯ মাস পেরিয়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও এত দীর্ঘ সময়েও মূল কাঠামোর কাজই শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্থানীয় এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ধীরগতির ব্যাপারে বিস্তারিত জানি না, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় জানান, জায়গাটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কিছু প্রকৌশলগত জটিলতার কারণেও কাজ পিছিয়েছে। তবে মাঠ সমতলের কাজ শেষ হয়েছে, বাকিটা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।
ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করেন, স্টেডিয়ামটি চালু হলে রায়পুরে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রাণ ফিরে আসবে। যুবসমাজকে খেলাধুলার সুযোগ করে দিলে সামাজিক অবক্ষয়ও কমবে।