কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের উর্দ্ধতন প্রকৌশলী (ওয়ে) দপ্তরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৯ নভেম্বর ২০২৫) সকালে অফিস খুলতে এসে কর্মচারীরা দেখতে পান, অফিস কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ এবং জানালার কাঁচ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। পরে পুলিশ ও আরএনবি সদস্যদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে দেখা যায়— অফিসের মূল্যবান বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।
চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে— দুটি ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন লিফটিং জ্যাক, গাছ কাটার মেশিন, আটটি ড্রিল বিট, একটি ট্রলির পিনিয়াম, পাঁচটি হ্যামার, একটি হ্যান্ড ড্রিলিং জোগান, একটি হ্যান্ড ড্রিলিং রেসেট, তিনটি জ্যাক রেসেট, ১০টি রেলের টুকরা (৪” ও ৬”) এবং একটি জল মোটর।
ঘটনাটি জানিয়ে টাইমকিপার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নোমান মিয়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। খবর পেয়ে উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অ.দা.) আনিসুজ্জামান পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
সরজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ে থানার পাশেই অবস্থিত উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর অফিস এবং তার সংলগ্ন পরিত্যক্ত ‘পিডব্লিউ সরকারি বাসভবন’ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ওই ভবনে নেশাগ্রস্তদের আড্ডা বসে এবং সেখানে মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে।
এলাকাবাসীর অনেকে জানান, সম্প্রতি ওই ভবনের টিনের চাল ও অন্যান্য সামগ্রীও একদল চক্র খুলে নিয়ে গেছে। তাদের ধারণা, এই চক্রই রেলওয়ে অফিসের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন,
ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার আওতাধীন এলাকায় যেন কোনো সরকারি স্থাপনার ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে আমি সর্বদা সচেষ্ট।”