মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফঃ-
সাভারে পূর্ব শত্রুতার জেরে আবু সাঈদ (৫০) নামে এক কৃষককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার নয় দিন পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামী আওয়ামী লীগ সমর্থক জাকির হোসেন। উল্টো হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বেড়াইদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গত ২২ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কৃষক আবু সাঈদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই আবু সাঈদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা।
পরদিন (২৩ অক্টোবর) নিহতের ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হাসান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামী করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পার হলেও মামলার প্রধান আসামীসহ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এতে নিহতের পরিবার গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারটির অভিযোগ, “আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় পুলিশ প্রধান আসামী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার না করে তাকে আড়াল করছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, “জাকির প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ আমাদের পাশে না থেকে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছে।”
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর, অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর নিহত আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
কিন্তু কর্মসূচি পালনের পরপরই অভিযুক্ত জাকির হোসেনের অনুসারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে নিহতের ছেলে জায়েদ হাসানসহ ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।
প্রথম মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, আর দ্বিতীয় মামলায় ২৩ জনকে আসামী করা হয়। দুটি মামলাতেই নিহতের ছেলে জায়েদ হাসানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ওই মামলাগুলোর একটিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
নিহতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম বলেনঃ-
“আমার স্বামীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে জাকির হোসেন ও তার লোকজন। আমরা ন্যায়বিচার চাইতে থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের প্রাণনাশের ভয় আছে।”
নিহতের ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হাসান বলেনঃ-
“আমার বাবার খুনিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা বিচার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমরা ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একজন নিরীহ কৃষককে নৃশংসভাবে হত্যা করার পরও আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো যারা ন্যায়বিচার চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে—এটি অন্যায়ের চরম দৃষ্টান্ত।”
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেনঃ-
“হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষে দায়ের করা মামলাগুলোও আমরা তদন্ত করছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হত্যার নয় দিন পার হয়ে গেলেও প্রধান আসামীসহ কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়রা দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।