মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানা এলাকা এখন যানজটের আরেক নাম। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকায় লেগেই থাকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। শহরের বিভিন্ন দিকের গাড়ি এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে এবং রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে তৈরি হয়েছে স্থায়ী যানজটের চিত্র। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরানথানা মোড় থেকে গৌরঙ্গ বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তায় দোকানপাটের সামনে ফুটপাত দখল করে পণ্য রাখা হয়। কেউ কেউ পণ্য উঠানামার সময় ট্রলি ও ভ্যান রাস্তার মাঝখানে রেখে দেয়, ফলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও সময় লাগে আধা ঘণ্টার বেশি।
রিকশাচালক আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই এলাকায় গাড়ি চালানো মানে মানসিক যন্ত্রণা। সকাল-বিকেলে এমন জট লেগে থাকে যে রিকশা নিয়েও এক ইঞ্চি এগোনো যায় না।”
পথচারীরাও একই অভিযোগ করে জানান, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো এখন যেন ভাগ্যের ব্যাপার। বিশেষ করে অফিস সময় ও স্কুল ছুটির পর যানজটের তীব্রতা চরমে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। অবৈধ পার্কিং আর হকারদের দখলদারিত্ব বন্ধ না হলে যানজট কমবে না।
কিশোরগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি, তবে সড়কের প্রস্থ কম এবং দোকানগুলোর অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বড় বাধা। পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, “পুরানথানা এলাকায় যানজট নিরসনে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান ও রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মনিনূরুজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করছি এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
শহরবাসীর আশা, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পুরানথানা এলাকার দীর্ঘদিনের এই যানজট থেকে শিগগিরই মুক্তি মিলবে।