1. admin@doinikbartamansongbadbd.com : admin :
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর অভিমত - দৈনিক বর্তমান সংবাদ
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘায় রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতা নয়, প্রমাণ করে চলেছেন যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান সুমন এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ডালপালার ঝাড়ু—এক যুগের বেশি সময় ধরে কবরস্থানের নীরব সেবক অ্যাডভোকেট মওলা বক্স তারেক রহমানের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিরামপুরে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলা বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিরামপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ত্রিশালে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ২০ দিন ধরে নিখোঁজ মোহাম্মদ রাহেল খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপের উদ্বোধনে উঠল কাটলার খেলার মাঠের দাবি বিরামপুরে খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ উদ্বোধন, খালেদা জিয়ার চরিত্রে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজুক সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখির উদ্বোধনে নবাবগঞ্জে চালু সিজারিয়ান অপারেশন, প্রথম দুই প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর অভিমত

দৈনিক বর্তমান সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৪ বার পঠিত

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জিয়াউল ইসলাম জিয়া তার নেতৃত্বগুণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের সম্ভাব্য অবদান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারে জিয়ার উত্তরগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, গণতান্ত্রিক মনোভাব এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা।

সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হয় দলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ কী। জিয়া বলেন, “দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তৃণমূল পর্যায়ের সংহতি এবং নেতৃত্বের স্বচ্ছতার অভাব বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সাধারণ সম্পাদক হলে নিয়মিত বৈঠক, কর্মী-সম্মেলন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়িয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।” তিনি আরও বলেন, নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নবীনদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং অভিজ্ঞ নেতাদের জ্ঞান একত্রিত করলে দল দীর্ঘমেয়াদিভাবে শক্তিশালী হবে।

তৃণমূল পর্যায়ের শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়ে জিয়া বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কর্মী সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দলকে সবল করা সম্ভব। আমি চাই প্রতিটি কর্মী নিজেকে দলের সঙ্গে যুক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করুক।” রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভিন্নমতকে গুরুত্ব না দিলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না। আমি সব দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্তর্ভুক্ত করব এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করবো।”

জাতীয় প্রেক্ষাপটের বিষয়ে জিয়া বলেন, “দেশের প্রধান সমস্যা হলো অর্থনীতি, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “স্বচ্ছ নেতৃত্ব, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করলেই আমরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারব।”

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের বিষয়ে জিয়া বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করব। দলের ভিতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করাই আমার মূল লক্ষ্য। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করব।” তিনি মনে করেন, তরুণরা ছাড়া রাজনীতিতে নতুন উদ্যম এবং পরিবর্তন আনানো সম্ভব নয়।

নারী ভোটারদের গুরুত্ব সম্পর্কে জিয়া বলেন, “নারীদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজ পূর্ণভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে না। তাই নির্বাচনী পরিকল্পনায় নারী উদ্যোগ এবং অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

 

সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়েছে, জিয়াউল ইসলাম জিয়া শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং দলের ও জনগণের কল্যাণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, তৃণমূল পর্যায়ের সঙ্গে সংযোগ এবং তরুণদের নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা— সবই তার নেতৃত্বগুণ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রার্থীকে তারা শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচনের পরও এলাকার পাশে থাকতে দেখবেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জিয়ার মনোনয়নপ্রার্থী হিসেবে কর্মকাণ্ড এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভোটারদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব এবং পরিকল্পনা যদি নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা আসনটিতে শক্তিশালী প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, জনগণের আস্থা অর্জন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা— এই তিনটি বিষয়ই আগামী নির্বাচনে তার ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক বর্তমান সংবাদ