মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর ঐতিহ্যবাহী আনসার মাঠ প্রাঙ্গনে ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সার্বিক সহযোগিতায় সিরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকেই মানুষজন আসতে শুরু করেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই নীরবে বসে পড়লেন মঞ্চের দিকে মুখ করে। রাত ঘনিয়ে আসতেই মাঠ ভরে ওঠে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষের ভিড়ে।
মঞ্চটি সাদামাটা হলেও তার চারপাশে সাজানো ছিল রঙিন আলো। মাইকে ভেসে আসছিল দরুদ শরীফের সুর। সেই সুরে যেন চারপাশের বাতাসও ভিজে উঠেছিল। সভাপতিত্ব করছিলেন ইসলামপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি জনাব মোঃ মোস্তফা নূরুনবী।
প্রথমেই মঞ্চে ওঠেন স্থানীয় মাওলানা যুবায়ের হোসেনের বক্তব্যও শ্রোতাদের ভাবিয়ে তোলে। তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সাঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায় কিভাবে প্রতিবেশীর হক আদায় করতে হয়, কিভাবে দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।
হাফেজ ক্বারী নূর নবী আল আজাদীর ক্বিরাত শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবান চরিত্র নিয়ে সুন্দর আলোচনা করেন।
হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম সাদাকী। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি আধুনিক সমাজের অবক্ষয় প্রসঙ্গ টেনে বলেন,আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদর্শ ভুলে যাচ্ছি বলেই সমাজে অন্যায় বাড়ছে। নবীজীর (সাঃ) সততা ও দয়ার শিক্ষা যদি আমরা আঁকড়ে ধরি, তবে ঘর থেকে রাষ্ট্র সবখানেই শান্তি নেমে আসবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবনই মানবতার আলোকবর্তিকা। তিনি না এলে দুনিয়া অন্ধকারেই ডুবে থাকত। এই একটি বাক্যেই মাঠ জুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ,সুবহানাল্লাহ!
মাঠে শুধু পুরুষ নন, নারীরাও আলাদা প্যান্ডেলে বসে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মাহফিল উপভোগ করেছেন। শিশু-কিশোররা বাবার কাঁধে চড়ে মনোযোগ দিয়ে শুনছিল বক্তাদের কথা।
আয়োজক ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা জানালেন, আজকের প্রজন্মকে নবীজীর (সাঃ) জীবন ও আদর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
গভীর রাত। মঞ্চ থেকে শুরু হলো সমাপনী মুনাজাত। আলেমরা হাত তুললেন, সঙ্গে হাজারো মানুষও। নীরব আকাশের নিচে মুসল্লিদের কণ্ঠে ভেসে এল এক শব্দ, আমিন। সেই মুহূর্তে আনসার মাঠ পরিণত হলো শান্তি, ভালোবাসা আর আলোর এক প্রতীকী ময়দানে।